নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিম বর্ধমান জেলায় অস্তিত্বের সংকটে পড়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিগত দু’ মাসে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি তো ছিলই না বিজেপির আক্রমণের সামান্যতম প্রতিরোধটুকুও হয়নি। দু’ মাস পর বুধবার প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির ‘চোর চোর’ আওয়াজের প্রতিবাদে পাল্টা আওয়াজ উঠল, ‘ভোট চোর গদি ছোড়’। দুর্গাপুরে তৃণমূল ও বিজেপির স্লোগান, পাল্ট স্লোগানে চাঞ্চল্য ছড়াল। দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট মজদুর ইউনিয়ন ১ জুলাই ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জন্মদিন উপলক্ষ্যে একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছিল। দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপের চৈতন্য অ্যাভিনিউতে জয়ন্ত রক্ষিত সহ তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক নেতাদের আয়োজনে রক্তদান শিবিরে যোগ দিতে আসেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার এমপি দোলা সেন। রক্তদান শিবিরের অদূরে জমায়েত হতে দেখা যায় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের। দোলা সেন গাড়ি নিয়ে রওনা দিতেই তাঁকে লক্ষ্য করে কালো পতাকা দেখানো শুরু করে বিজেপি কর্মীরা। তাঁকে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’, ‘দোলা সেন মুর্দাবাদ’ স্লোগান ওঠে। তখনই দুর্গাপুর বাস অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক তৃণমূল নেতা কল্লোল ঘোষ, প্রাক্তন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জেলা সভাপতি কৌশিক মণ্ডল সহ বাকিরা রুখে দাঁড়ান। তাঁরা পাল্টা স্লোগান দেন, ‘ভোট চোর গদি ছোড়’। এই প্রতিরোধের মুখে বিজেপি কর্মীদের এলাকা থেকে চলে যেতে দেখা যায়। কল্লোল ঘোষ বলেন, সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক রক্তদানের মতো সামাজিক কাজও ওরা করতে দেবে না। এটা কী ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। দুর্গাপুরের মানুষ এটা মেনে নেবে না।
বিজেপি মণ্ডল সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ গায়েন বলেন, দুর্গাপুরের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করতে তৃণমূলের গুন্ডা দোলা সেন এসেছিল। তাই আমরা তাঁকে কালো পতাকা দেখিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি।
বহুদিন পর তৃণমূল-বিজেপি চাপানোতর দেখলে শিল্পাঞ্চলবাসী। জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা নতুন ভাবে সংঘবদ্ধ হওয়া শুরু করেছে। তাঁদের দাবি, বিপুল সংখ্যাক কর্মী তাঁদের পাশেই আছে। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন রানিগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল শহর সভাপতি রূপেশ যাদবও।
অন্যদিকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। জামুড়িয়ায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হরেরাম সিংহের ছেলে প্রেমপাল সিংয়ের অফিসে পুলিশ হানা দেয়। এই তৃণমূল নেতার ঔদ্ধত্য নিয়ে বার বার সমালোচনা হয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী এসে এনিয়ে হরেরামকে সতর্ক করেন। এহেন প্রেমপাল সিংয়ের বহুলা অফিসে হানা দেয় পুলিশ। জামুড়িয়া থানার পুলিশের পাশাপাশি অণ্ডাল থানার পুলিশও অভিযানে অংশ নিয়ে ছিল। বিভিন্ন নথি পুলিশকে খতিয়ে দেখতে দেখা যায়।