ইটাহার কাণ্ড: ধৃত চিকিত্সক পুলিশের হেফাজতে, উদ্ধার ক্যামেরার ভাঙা অংশ
বর্তমান | ০২ জুলাই ২০২৬
সংবাদদাতা, ইটাহার: নার্সদের পোশাক বদলের রুমে গোপন ক্যামেরা রাখার অভিযোগে ধৃত চিকিৎসক বিশ্বজিৎ ঘোষকে একদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিল রায়গঞ্জ জেলা আদালত। এদিকে, ইটাহার গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসকদের বিশ্রামঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে ক্যামেরার ভাঙা অংশ। চিকিৎসকের কুকীর্তি সামনে আসতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে উত্তর দিনাজপুর জেলাজুড়ে। সূত্রের খবর,চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ধৃত চিকিৎসক স্বীকার করেছেন,অনলাইনে সেই গোপন ক্যামেরা কিছুদিন আগে কিনেছিলেন তিনি। নার্সদের পোশাক বদলের রুমে ক্যামেরা রাখার বিষয়টি জানাজানি হতেই চিকিৎসক প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেন। ভেঙে ফেলেন ক্যামেরাটি। তবে ক্যামেরার ভাঙা অংশ ইতিমধ্যে হাসপাতালের চিকিৎসকের বিশ্রামঘরের লকার থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তে অগ্রগতির স্বার্থে বিএমওইচকেও বুধবার সন্ধ্যায় ইটাহার থানায় হাজিরা দিতে হয়েছে। ওই ক্যামেরার ফুটেজ নষ্ট করে ফেলা হয়েছে নাকি, অন্য কোথাও সংরক্ষণ করা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া ক্যামেরার নমুনা প্রয়োজনে ফরেন্সিক টেস্টের জন্যও পাঠাতে পারে পুলিশ। কয়েকদিন আগে নার্সের পোশাক বদলের ঘরে কলমের মধ্যে গোপন ক্যামেরা রাখার অভিযোগ ওঠে চিকিত্সক বিশ্বজিতের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও রেজিস্ট্রেশন বাতিলের দাবিতে ইটাহার গ্রামীণ হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখান নার্স ও তাঁদের পরিজনেরা। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য দপ্তরও তদন্ত করছে। তিনজনের তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে সেই রিপোর্ট জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে জমা দিয়েছে। বিএমওএইচ মনুগোড়া ফেবরিট এক্কা বলেছেন, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর কী ব্যবস্থা নিচ্ছে তা বৃহস্পতিবার জানা যেতে পারে।