পেট্রলের থেকেও বিমানের জ্বালানি সস্তা, ক্ষুব্ধ মানুষ
বর্তমান | ০২ জুলাই ২০২৬
নয়াদিল্লি ও কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আলোচনায় রাস্তায় ফিরেছে আমেরিকা ও ইরান। বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দামও চলে এসেছে যুদ্ধ শুরুর আগের স্তরে। কিন্তু সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত জ্বালানিতে সুরাহার নামগন্ধ নেই। পেট্রল-ডিজেল-গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের দর আকাশছোঁয়া। নাজেহাল ‘আম আদমি’। তাদের স্বস্তির ব্যবস্থা করার আগেই বুধবার ঘটা করে বিমানে ব্যবহৃত ‘ভিভিআইপি’ জ্বালানির দাম ৫ টাকা কমাল কেন্দ্র। এভিয়েশন টার্বাইন ফুয়েলের (এটিএফ) দাম লিটার প্রতি ১১৫ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১১০ টাকা। ফলে বিমানভাড়া খানিক কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। অথচ কলকাতায় পেট্রলের দাম দাঁড়িয়ে রয়েছে ১১৩ টাকা ৫১ পয়সাতেই। অর্থাৎ, মোদি সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে পেট্রলের থেকে সস্তা হয়ে গিয়েছে বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানি। স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ স্লোগানকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিরোধী শিবির। পেট্রল-ডিজেল-রান্নার গ্যাসের দাম কমানোর দাবিতে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস। বিমানের জ্বালানির থেকে পেট্রলের দাম বেশি হয়ে পড়ায় প্রবল ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষও।
শুধু এটিএফ নয়, এদিন অটো রিকশতে ব্যবহৃত এলপিজির দামও কমেছে ৭ টাকা। লিটারপ্রতি অটো-এলপিজির দাম ছিল ৮৯ টাকা ৪০ পয়সা। তা কমে হয়েছে ৮২ টাকা ৪০ পয়সা। দাম কমানো হয়েছে হোটেল-রেস্তরাঁয় ব্যবহৃত বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারেরও। ১৯ কেজির সেই সিলিন্ডারে দাম কমেছে ১৮৩ টাকা ৫০ পয়সা। তবে সাধারণ গৃহস্থের হেঁশেলে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারে কোনো সুরাহা দেওয়া হয়নি। সরকারের এই পদক্ষেপেও বিতর্ক তুঙ্গে। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম কমানোর সিদ্ধান্তকে বিজেপি স্বাগত জানালেও ঘরোয়া রান্নার গ্যাস ও পেট্রল-ডিজেল নিয়ে তাদের মুখে কুলুপ। ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রলিয়াম, হিন্দুস্তান পেট্রলিয়ামের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে বেসরকারি রিটেলার সংস্থা নায়ারা এনার্জি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম কমিয়েছে পেট্রল-ডিজেলের। দেশজুড়ে নায়ারার নেটওয়ার্কের অধীনে থাকা ৭ হাজারের বেশি ফুয়েল স্টেশনে পেট্রলে লিটার প্রতি ৫ টাকা ও ডিজেলে ৩ টাকা করে দাম কমানো হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা দাম কমালেও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা কেন সুরাহা দিচ্ছে না? প্রশ্ন তুলছেন ক্ষুব্ধ জনতা। এই ইস্যুতে মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের কটাক্ষ, বিজেপি ‘লুট’ করছে, সাধারণ মানুষের ‘পকেটমারি’ করছে। বিজেপির কাছে জনগণ এখন কেবল কর আদায় ও রাজস্ব বাড়ানোর একটি মাধ্যম।