: দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে শুরু হল অস্ত্রোপচার। আর প্রথম দিনেই হার্নিয়া অপারেশনে বড়সড় সাফল্য পেল বেলদা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল। মঙ্গলবার এই সফল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়েই এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল ওই হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, নারায়ণগড়ের রাইপুর এলাকার বাসিন্দা পঞ্চান্ন বছর বয়সি বিমল দাসের হার্নিয়া অপারেশন করা হয়েছে এদিন। জেনারেল সার্জন সন্দীপ চট্টোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত সফলভাবেই এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানান হয়েছে, প্রথম দিনের এই অপারেশন সম্পূর্ণ সফল এবং রোগী সুস্থ আছেন।
উল্লেখ্য, এত দিন বেলদা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল মূলত নামেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে সম্প্রতি এই হাসপাতাল নিজস্ব ‘ডিডিও’ কোড পেয়েছে, যার ফলে এটি সরকারিভাবে সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের চূড়ান্ত স্বীকৃতি লাভ করেছে। স্বীকৃতি মেলার পরেই হাসপাতালের সার্বিক পরিকাঠামো বদলের কাজে বিশেষ জোর দেয় স্বাস্থ্য প্রশাসন। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে সেখানে নিয়োগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে জেনারেল অপারেশন চালু হয়ে যাওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ প্রভূত উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের আর দীর্ঘ পথ পেরিয়ে খড়গপুর মহকুমা হাসপাতাল বা মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছুটতে হবে না। স্বাভাবিকভাবেই কমবে রোগীদের অন্যত্র রেফার করার প্রবণতা।
রাজ্যে পরিবর্তনের পর থেকেই এই হাসপাতালের মানোন্নয়নে তৎপর হয়েছিলেন নারায়ণগড়ের বিধায়ক রমাপ্রসাদ গিরি। তিনি নিজে একাধিকবার হাসপাতাল পরিদর্শন করে বৈঠক করেছেন, পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে ছুটে গিয়েছেন স্বাস্থ্য ভবনেও। বিধায়ক জানিয়েছেন, এলাকার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেনেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে নতুন চিকিৎসক নিয়োগের পাশাপাশি হাসপাতালের পরিকাঠামো আরও উন্নত করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত হয়।
আপাতত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে অ্যাপেন্ডিক্স, হাইড্রোসিল, পাইলস, গলব্লাডার এবং হার্নিয়ার মতো অপারেশনগুলি হবে। ধীরে ধীরে পরিকাঠামো ও লোকবল বাড়লে আগামী দিনে অন্যান্য অস্ত্রোপচারও এখানেই চালু করা হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।