পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দীপ্তাংশুর বাবা মনোরঞ্জন মাহাত কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী। বর্তমানে তিনি ছেলের দেহ ময়নাতদন্ত শেষ করে বাড়িতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত। মা আগেই মারা গিয়েছেন। বাড়িতে রয়েছেন দীপ্তাংশুর একমাত্র দিদি মঞ্জিমা মাহাত। ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে যেন বাকরুদ্ধ তিনি। মঞ্জিমার দাবি, ফ্লাস্কে গরম রাখা চা পানকে কেন্দ্র করেই ভাই দীপ্তাংশু অসুস্থ হয়ে পড়ে।
অভিযোগ, প্রথমে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। পরিবারের সদস্যরা পৌঁছনোর পরই মিলবে চিকিৎসা বলে জানানো হয়। পরিস্থিতি-বেগতিক দেখে মিশনের দুই ছাত্রের সঙ্গে তাকে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, শুরুতেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেলে হয়তো এই ঘটনা ঘটত না। পরিবারের দাবি, পরে বাবা মনোরঞ্জন মাহাত ছেলের কাছে পৌঁছন। তাকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে চিকিৎসার পরিকল্পনা ছিল। গাড়িতে উঠেই অসুস্থ বোধ করলে বাবার কাঁধে মাথা রেখেই জ্ঞান হারান ছাত্র। এরপর স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
তিন বছর আগে মাকে হারিয়েছিল পরিবার। এবার একমাত্র ছেলেকেও হারিয়ে দিশেহারা দিদি মঞ্জিমা। দুই ভাইবোনই ছোটবেলা থেকে মেধাবী। মধ্যমগ্রামের নবনালন্দা শিশু বিদ্যাপীঠে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর দীপ্তাংশু নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে ভর্তি হয়। চলতি শিক্ষাবর্ষে তার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার কথা ছিল। পরিবারের সদস্যদের কথায়, কয়েকদিন ধরেই ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিল দীপ্তাংশু। আগামী ৩ জুলাই ছুটিতে বাড়ি ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা ছিল। ফুটবলপ্রেমী দীপ্তাংশু ব্রাজিল দলের সমর্থক এবং নেইমারের ভক্ত ছিল। ফিরে এসে খেলা দেখারও পরিকল্পনা ছিল।
মিশনে সব খেলা দেখা সম্ভব না হওয়ায় বাড়িতে এসে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলি দেখার কথাও জানিয়েছিলেন দিদিকে। এলাকার ছাত্রের এভাবে মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। ঠিক কী কারণে এই মৃত্যু, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।