শেঠ শ্রীলাল মার্কেটের খোলনলচে বদলাতে মাস্টারপ্ল্যান, আর ভিড় ঠেলে করতে হবে না কেনাকাটা
News18 বাংলা | ০২ জুলাই ২০২৬
উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম বাণিজ্যকেন্দ্র শেঠ শ্রীলাল মার্কেটকে ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা, রাস্তা দখল, গুচ্ছ ডালা এবং যানজটের সমস্যার অবসান ঘটিয়ে বাজারকে নতুন রূপ দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হতেই খুশির হাওয়া ব্যবসায়ী মহল থেকে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে। বহু বছরের প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রশাসনিক তৎপরতায় হাল ফিরতে চলেছে এই ঐতিহ্যবাহী বাজারের। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের আনাগোনা থাকা এই মার্কেটে প্রায় সাত হাজারেরও বেশি ব্যবসায়ীর জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু বাজারের প্রধান রাস্তাগুলি ধীরে ধীরে সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় নিত্যদিনের কেনাকাটা থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহণ, এমনকি জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুল্যান্স বা দমকলের প্রবেশও কঠিন হয়ে উঠেছিল।
ফলে ক্রেতা ও ব্যবসায়ী, উভয়কেই প্রতিনিয়ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছিল। ব্যবসায়ীদের মতে, যদি রাস্তা দখলমুক্ত করা যায় এবং গুচ্ছ ডালার সুষ্ঠু পুনর্বিন্যাস করা সম্ভব হয়, তাহলে বাজারে হাঁটাচলা অনেক সহজ হবে। ক্রেতাদের আর ভিড় ঠেলে কেনাকাটা করতে হবে না, প্রবীণ নাগরিক ও মহিলাদের যাতায়াতও হবে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক। পাশাপাশি যানজট কমলে বাজারের বাইরের এলাকাতেও স্বাভাবিক গতি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে শিলিগুড়ি শেঠ শ্রীলাল ইয়ুথ ফোরাম। ২০২৩ সাল থেকে একাধিকবার পৌরনিগমের দ্বারস্থ হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছিল ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
তবে সম্প্রতি শেঠ শ্রীলাল মার্কেট মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিস্থিতিতে আশার আলো দেখা দিয়েছে। নতুন নেতৃত্ব বাজার সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ শুরু করেছে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই সম্প্রতি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে ডিসিপি ট্রাফিক কাজী শামসুদ্দিন আহমেদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, যানবাহন চলাচলের সমস্যা, রাস্তা দখল এবং গুচ্ছ ডালার কারণে সৃষ্ট জটিলতার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়। ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
যদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, উপকৃত হবেন সাধারণ মানুষও। বাজারে নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ পরিবেশ তৈরি হবে, ক্রেতাদের সময় বাঁচবে, কেনাকাটার অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হবে এবং জরুরি পরিষেবার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে বাজারের সৌন্দর্যায়ন ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা নতুন ক্রেতা আকর্ষণ করতেও সাহায্য করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শহরের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এই বাজারের পুনর্গঠন সফল হলে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে গোটা শিলিগুড়ির বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর। এখন সকলের একটাই প্রত্যাশা. প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে দখলমুক্ত, পরিচ্ছন্ন এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন শেঠ শ্রীলাল মার্কেট আবারও ফিরে পাক তার হারানো ঐতিহ্য, গতি ও প্রাণচাঞ্চল্য।