মিল্টন সেন: সংগ্রহশালা তৈরি হবে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির পৈত্রিক ভিটে অর্থাৎ ভাই বামা প্রসাদের বাড়িতে। সেই মর্মে শুরু হয়েছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া। একইসঙ্গে হুগলির বলাগড় থানার অন্তর্গত জিরাটে অবস্থিত ওই পৈত্রিক ভিটেতে তৈরি হচ্ছে ১২৫ ফুটের বিশাল মূর্তি। ইতিমধ্যেই বলাগড়ের বিধায়ক সুমনা সরকার ও শ্যামাপ্রসাদের বংশধরদের সঙ্গে নিয়ে সরকারি তরফে তিনটি জায়গায় দেখা হয়েছে।
নজরে বলাগড়ের আসাম লিঙ্ক রোড-সহ একাধিক জায়গা। সেই সঙ্গে আশুতোষ মুখার্জির স্কুল ও লাইব্রেরির পিছনের অংশ এই প্রজেক্টের অন্তর্গত করা হয়েছে। বলাগড়ে এমনিতেই শ্যামাপ্রসাদ মিনি বন্দর তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। নতুন সংযোজন হতে চলেছে শ্যামাপ্রসাদের সুবিশাল মূর্তি ও অডিটোরিয়াম। এবার পর্যটন মানচিত্রে আলাদা গুরুত্ব পেতে চলেছে বলাগড়ের জিরাট।
ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির পরিবার চায় শুধু মূর্তি তৈরি বা সংগ্রহশালার সঙ্গে জিরাট হাসপাতালের নাম পরিবর্তনও। এছাড়াও দাবির তালিকায় রয়েছে, আসাম লিঙ্ক রোড ও ট্রেন পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও
বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদের পৈত্রিক ভিটের উন্নয়ন হবে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়লাভের পরই পরিবারের তরফে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির পৈতৃক ভিটে সংস্কারের দাবি জোরদার হয়। রাজ্য সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকীতে ১২৫ ফুটের শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি তৈরি হবে। একইসঙ্গে তৈরি হবে সংগ্রহশালা। বলাগড়ের জিরাটে চলছে তারই প্রস্তুতি।
মুখার্জি পরিবারের সদস্য বাণী প্রসাদ মুখার্জি বলেছেন, তিনি শুনেছেন তাঁর বাড়ি সরকার অধিগ্রহণ করে মিউজিয়াম তৈরি করার চিন্তা ভাবনা করছেন। ডঃ শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুটের মূর্তি তৈরি করতে অনেকটা জায়গায় প্রয়োজন। তাই জিরাট বাসস্ট্যান্ড ও আসাম লিঙ্ক রোড সংলগ্ন এলাকায় জায়গা দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মূর্তির সঙ্গে তৈরি হবে অডিটোরিয়াম। তিনি আরও বলেছেন, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি এবং তাঁর দাদু বামাপ্রসাদ মুখার্জি, যে উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে স্কুল, গ্রন্থাগার তৈরি করেছেন, তা অব্যাহত রেখে এই সরকারের উদ্যোগে জিরাট বলাগড়ের উন্নতি হোক।
হাসপাতালের নাম পরিবর্তনের কথা হয়েছে। জিরাটে যে বালিকা বিদ্যালয় আছে, ইতিমধ্যেই সেটি প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের আওতাভুক্ত হয়েছে। বলাগড়ের বিধায়ক সুমনা সরকারের কাজ করার আগ্রহ রয়েছে। তিনি চান ১২৫ ফুটের যে মূর্তি তৈরি হবে সেটা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। জিরাটে প্রবেশের মুখেই এই মূর্তি থাকলে একটা ল্যান্ডমার্ক তৈরি হবে। আশুতোষ মুখার্জির নামে যে লাইব্রেরী ১৯৫৩ সালে সরকারের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সেই গ্রন্থাগার আরও উন্নত করলে ভাল হবে। সর্বোপরি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হোক।
জিরাট হুগলি জেলার প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠুক। শ্যামাপ্রসাদ ও বামপ্রসাদের পৈতৃক ভিটে সংস্কার ও উন্নয়নে গর্ব অনুভব করছেন শ্যামাপ্রসাদের বংশধর (নাতনি) দীপান্বিতা মুখার্জি। তিনি বলেছেন, ক্ষোভ অভিমান ছিল। বিগত দু'দশকে বেশি সময় ধরে আশুতোষ মুখার্জি ও শ্যামাপ্রসাদের ইতিহাস নানাভাবে জিরাট বলাগড় থেকে মুছে ফেলার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু, ভারতীয় জনতা পার্টি হাত ধরে যে প্রচেষ্ঠার সূত্রপাত হয়েছে। তাতে তাঁর তরফে পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।
এই প্রসঙ্গে বলাগড়ের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সুমনা সরকার বলেছেন, "ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মূর্তি তৈরি এবং সংগ্রহশালা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। তাদের যে সম্পত্তি রয়েছে তাতে সরকারিভাবে অধিগ্রহণ করার কথা ও চিন্তা ভাবনা করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেটা পালন করা হচ্ছে। পরিবারকে পাশে নিয়েই এই প্রতিশ্রুতি পালন করা হবে। বামাপ্রসাদ মুখার্জির বাড়ি নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ১২৫ ফুটের মূর্তি স্থাপন হবে। তাই জায়গার খোঁজ চলছে। মূর্তির জায়গা ও মিউজিয়ামের জন্য ২০০ কোটি টাকার বাজেট করা হয়েছে। সেইসঙ্গে জিরাট হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করার প্রস্তাবও সরকারের কাছে দিয়েছি।"