ইরাবতীর হড়পা বানে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ, ধসে মৃত চার, ভেসে গেল ঘরবাড়ি, বিচ্ছিন্ন বহু গ্রাম, বিভিন্ন সড়কে যানজট
বর্তমান | ২৯ আগস্ট ২০২৫
সিমলা ও চণ্ডীগড়: ভরা বর্ষায় ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে হিমাচল প্রদেশের নদীগুলি। বিশেষত ইরবাতী। প্রবল বৃষ্টিতে ইরবাতীতে নামে হড়পা বান। এর জেরে কাংড়া ও চাম্বা জেলায় ভেসে গিয়েছে বেশ কিছু স্কুল, সেতু, সরকারি বাড়ি। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু গ্রাম। বিভিন্ন জায়গায় ধস নেমে মৃত্যু হয়েছে চারজনের। আহত দু’জন।
পির পাঞ্জাল ও ধৌলাধর রেঞ্জের মাঝে কাংড়া জেলার প্রত্যন্ত বড়া ভাঙ্গাল গ্রামে বন্যায় ভেসে গিয়েছে পঞ্চায়েত ঘর, সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন, আয়ুর্বেদিক ডিসপেনসারি ও দুটি সেতু। এছাড়াও ভেসে গিয়েছে একটি রেশন দোকান। সেখানে ৭০ কুইন্টাল খাদ্যশস্য মজুত ছিল। দু’টি সেতু ভেসে যাওয়ায় গ্রামটি পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।’ বৈজনাথের এসডিএম সংকল্প গৌতম একথা জানিয়েছেন। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, আগাম সতর্কতা হিসেবে এই গ্রামের বাসিন্দাদের অন্যত্র নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছিল। ফলে সেখানে প্রাণহানি এড়ানো গিয়েছে। সেখানে ১৮৯ কুইন্টাল রেশন পৌঁছে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আকাশ পথে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হবে। স্থানীয় এক গ্রামবাসী জানিয়েছেন, ইরাবতীর উচ্চ অববাহিকায় ১০০-র বেশি পশুপালক আটকে পড়েছেন। চাম্বার হালুন গ্রামের একটা বড় অংশ জলের তলায় চলে গিয়েছে। ভেসে গিয়েছে ৯টি বাড়ি। বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে বহু বাড়ি। সেখানকার বাসিন্দাদের সময়মতো সরিয়ে নিয়ে যাওয়ায় বড়সড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে। যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় চাম্বার বিভিন্ন জায়গায় ধস নামে। এতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বাসোধান পঞ্চায়েত এলাকায় মাটির নীচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়ে ভাই ও বোন। ভিমলা পঞ্চায়েতে বোল্ডারের আঘাতে মৃত্যু হয়েছে দুই মহিলার। এই ঘটনায় জখম আরও দু’জন।
এছাড়া ধসের জেরে যান চলাচল থমকে গিয়েছে চণ্ডীগড়-মানালি জাতীয় সড়কে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সড়কে গাড়ির দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে পড়েন অনেকে। একই অবস্থা চণ্ডীগড়-কুলু হাইওয়েতেও। ধসের জেরে যান চলাচল বন্ধ থাকায় বৃহস্পতিবার প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট চোখে পড়ে। বহু ট্রাকে করে দিল্লির জন্য শাক-সবজি আনা হচ্ছিল। সেগুলি নষ্ট হওয়ার উপক্রম বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। । এদিকে, বিপাশার জল বেড়ে যাওয়ায় মানালির তিবেতিয়ান কলোনিতে বুধবার ১৩০ জন আটকে পড়েন। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে। কাংড়া জেলায় অরণি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২৫ জন পড়ুয়াকে উদ্ধার করা হয়েছে।