বুমেরাং ট্রাম্পের কৌশল, ভারতকে শায়েস্তা করতে গিয়ে কোন কোন পণ্যে পকেট ফাঁকা হওয়ার জোগাড় মার্কিনিদের?...
আজকাল | ২৯ আগস্ট ২০২৫
আজকাল ওয়েবডেস্ক: অতচিরিক্ত শুল্ক চাপিয়ে ভারতকে চাপে ফেলতে অনড় ট্রাম্প। এতে অবশ্য নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় আমেরিকানদেরই।
ট্রাম্পের শুল্ক কেন আমেরিকান ভোক্তাদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে?বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় পণ্যের উপর উচ্চ আমদানি শুল্কের ফলে মার্কিন বাজারে বিভিন্ন ধরণের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেকটাই বেড়ে যাবে। কারণ বিক্রেতারা লাভের জন্য বা কিছু ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে চড়া আমদানি খরচ ভোক্তার উপর চাপিয়ে দেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির মুখোমুখি। এর উপর ভারতীয় পণ্যের উপর বাড়তি শুল্ক আরোপের ফলে সংকট আরও তীব্র হবে। ফলে ফেডারেল রিজার্ভের জন্য নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি না নিয়ে চাপ কমানো কঠিন হয়ে পড়বে।
ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ধরণের পণ্য রপ্তানি করে। রপ্তানীকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে গাড়ির যন্ত্রাংশ, আইটি হার্ডওয়্যার, বস্ত্র এবং শিল্প রাসায়নিক। এইসব পণ্য মার্কিন উৎপাদন ও খুচরা বাজারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং, এই পণ্যের উপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে মার্কিন পণ্যের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং ভারত থেকে আমদানি করা খুচরা পণ্যের দাম অনেকটাই বাড়বে।
ট্রাম্পের শুল্ক কীভাবে মার্কিন স্বাস্থ্যসেবার উপর প্রভাব ফেলতে পারে?ডোনাল্ড ট্রাম্প যদিও ওষুধ শিল্পকে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ থেকে বাদ দিয়েছেন। কিন্তু, মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাম্প্রতিক বিবৃতিতে ওষুধ শিল্পকেও বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্কের আওতাধীন করার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন ওষুধ সংস্থাগুলিকে সরবরাহ শৃঙ্খল স্থানান্তর (ভারতীয় পণ্য কেনার বদলে অন্য কোথাও থেকে তা কিনে নেওয়া) করতে চাপ দেওয়ার জন্য নিয়ম চালু করতে পারে।
ভারত ইতিমধ্যেই ফার্মাসিউটিক্যাল পাওয়ার হাউস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোট জেনেরিক ওষুধের প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ হয় এ দেশ থেকে। ভারত থেকে আমদানিকৃত ওষুধের উপর শুল্ক অব্যাহতি প্রত্যাহার বা বাড়ানো হলে মার্কিন মুলুকে ওষুধের দাম আকাশচুম্বী হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের পরিস্থিতির ফলে বিমা পরিশোধ, মেডিকেয়ার ব্যয় এবং হাসপাতাল ব্যয়ের ক্ষেত্রেও চাপ বাড়বে হু-হু করে। অতিরিক্ত শুল্কের সম্ভাব্য ঝুঁকি ইতিমধ্যেই ক্রয় কৌশলগুলিকে প্রভাবিত করছে, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের সরবরাহ ব্যয়বহুল এবং ধীরে হয়ে যাবে।
এই মাসের শুরুতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। যার ফলে আমেরিকায় ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর মোট শুল্ক বেড়ে ৫০ শতাংশ হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর কারণ হিসাবে, দিল্লির- রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনাকে দায়ী করেছেন। তাঁর মতে, ভারত তেল কিনে আদতে ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার আগ্রাসনকেই মদত দিচ্ছে। তাই "শাস্তি" হিসাবে ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছে ওয়াশিংটন।