প্রতিহত হবে ট্রাম্পের শুল্ক-বাণ, হাতিয়ার নয়া জিএসটি! পরিসংখ্যান তুলে ধরে বড় দাবি বিশেষজ্ঞদের ...
আজকাল | ২৯ আগস্ট ২০২৫
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্কের জেরে ভারতীয় অর্থনীতিতে মহা টানাপোড়েনের ইঙ্গিত। ভয়ানক চাপ তৈরি হতে পারে বেশ কিছু শিল্প। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, আসন্ন পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) সংস্কার এই দোদুল্যমান অবস্থাকে প্রতিহত করতে পারে। এছাড়াও বিশেষজ্ঞদের দাবি, চলতি দশকেই এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতির তকমাও থাকবে ভারতের মাথাতেই।
বিএমআই নামক এক সংস্থা তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, 'চলতি দশকের শেষে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার থাকবে ৬ শতাংশের সামান্য বেশি। যদিও ২০১০-২০১৯ দশকে এই হার ছিল ৬.৫ শতাংশ। তারপরেই করোনা অতিমারীর ধাক্কা নেমে আসে। কিন্তু সেই ধাক্কা সামলেও এশিয়ার বাজারগুলির মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে উন্নতি করা দেশের নাম ভারত। আগামী পাঁচ বছরে ভারতের জিডিপিও বাড়বে।"
এর আগে বিএমআই দাবি করেছিল যে, চলতি অর্থবর্ষ এবং আগামী অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হার নিম্নমুখী তবে এই ধারণা থেকে সংস্থাটি সরে এসেছে। সংস্থাটির রিপোর্টে উল্লেখ, 'ট্রাম্প ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ফলে চলতি অর্থবর্ষ এবং আগামী অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হার নিম্নমুখী হবে বলে অনুমান করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পূর্বাভাস সংশোধন প্রয়োজনীয়। ভারতের অর্থনীতি এই দুই অর্থবর্ষে যথাক্রমে ৫.৮ শতাংশ এবং ৫.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।'
বিএমআই রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে যে, 'নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর নির্ভর করে, জিএসটি শুল্ক সংস্কার বৃদ্ধির উপর চাপ কমাতে পারে। যেহেতু এখনও সংস্কার নিয়ে নিশ্চিৎ কিছু জানানো হয়নি তাই আমরা জিএসটি সংস্কারকে আপাতত আমাদের বৃদ্ধির পূর্বাভাসের জন্য সামান্য উল্টো ঝুঁকি হিসাবে তুলে ধরছি।'
পরিকল্পিতভাবে জিএসটি স্ল্যাবকে সহজ দুই-স্ল্যাব কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে অটোমোবাইল, সিমেন্ট, ভোক্তাদের প্রধান পণ্য এবং আর্থিক পরিষেবা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং মার্জিন উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, নতুন জিএসটি ব্যবস্থা অনুযায়ী, ১২ শতাংশ করের স্ল্যাবে থাকা ৯৯ শতাংশ পণ্য এখন পাঁচ শতাংশ করের স্ল্যাবে স্থানান্তরিত হবে। একইভাবে, ২৮ শতাংশ স্ল্যাবের আওতায় থাকা ৯০ শতাংশ পণ্য ১৮ শতাংশের স্ল্যাবে স্থানান্তরিত হবে। নতুন কর-কাঠামোয় ১২ এবং ১৮ শতাংশ্যের স্ল্যাব বাতিল হয়ে যাবে। বেশিরভাগ পরিষেবা পাঁচ এবং ১৮ শতাংশের স্ল্যাবে চলে আসবে।
এসবিআইয়ের রিপোর্টে অনুমান করা হয়েছে যে, ক্রয়ের পরিমাণ ৫.৩১ লক্ষ কোটি টাকা বাড়তে পারে। যা জিডিপি-র ১.৬ শতাংশের সমান। যার মাধ্যমেই ভারতীয় পণ্যে মার্কিন আমদানির ৫০ শতাংশ শুল্ক-ধাক্কা প্রতিহত করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।