প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে ভাই! ধরা পড়ার ভয়ে নিজের ভাইয়ের সঙ্গে যা করল দিদি, জানলে শিউরে উঠবেন ...
আজকাল | ২৯ আগস্ট ২০২৫
আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর প্রদেশে আবারও ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। এটাহ জেলার নাগলা মিতান গ্রামে সম্প্রতি এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ঘটনায় পারিবারিক সম্পর্কের আড়ালে এক ভয়াবহ অপরাধ লুকিয়ে ছিল। ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী ও তার ২০ বছর বয়সী প্রেমিক, বিনয় শর্মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা দুজনা মিলে কিশোরীর ১৩ বছর বয়সী ছোট ভাইকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। নিহত কিশোর স্থানীয় বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল। পরে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, গলায় চেপে ধরা অবস্থায় শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার জেরে পুলিশ জানিয়েছে, দু্র্ঘটনার রাতে কিশোরীর বাবা বাড়ির অদূরে এক খেতে এবং মা অন্যত্র ছিলেন। এই সুযোগে বিনয় শর্মা গোপনে কিশোরীর বাড়িতে আসে। গভীর রাতে দু’জন যখন ঘরে একান্তে সময় কাটাচ্ছিল, ঠিক তখনই ছোট ভাই ঘরে ঢুকে পড়ে এবং তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। সে সঙ্গে সঙ্গে বোন ও তার প্রেমিককে হুমকি দেয় যে, এই ঘটনা বাড়ির বড়দের সে জানাবে। এই কথা শুনে আতঙ্কে পড়ে যায় দুই অভিযুক্ত। এরপর যা হয় তা দেখে শিউরে উঠেছে সবাই। অভিযুক্ত প্রেমিক বিনয় শর্মা প্রথমে কিশোরের মুখ চেপে ধরে এবং কিশোরী নিজ হাতে গলায় চাপ দিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
হত্যার পর বিনয় দ্রুত বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। সকালে কিশোরী সাজানো নাটক শুরু করে। সে এমন আচরণ করে যেন প্রথমবার তার ভাইয়ের মৃতদেহ দেখতে পেয়েছে। সে চিৎকার শুরু করে, স্থানীয় প্রতিবেশীদের ডাকে, এবং পরিবারের সদস্যদের জানায় যে তার ভাই হঠাৎ করে মারা গিয়েছে। প্রথমে কেউ কিছু সন্দেহ করেনি। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিক তদন্তে নানা অসঙ্গতি লক্ষ্য করে। পরে, কিশোরের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠান হয়৷ এরপর স্পষ্ট হয় যে ছেলেটিকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ অভিযুক্ত কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রথমে সে ঘটনাটি অস্বীকার করলেও, পরিবারের উপস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত সে স্বীকার করে নেয় হত্যার ঘটনা। পুলিশ জানায়, সে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে কীভাবে এবং কেন এই ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার জেরে অভিযুক্ত বিনয় শর্মাকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মৃতের দিদি অর্থাৎ অভিযুক্ত কিশোরীকে কিশোর সংশোধনাগারে রাখা হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই হতবাক হয়ে পড়েছেন কিশোরী ও যুবকের এমন নির্মম আচরণে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া জারি রয়েছে। এর জেরে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।