• 'হাম দো, হামারে তিন', ভারতীয় পরিবারে নারীদের কত সন্তান জন্ম দেওয়া উচিৎ? আরএসএস প্রধানের নিদানে হইচই
    আজকাল | ২৯ আগস্ট ২০২৫
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৪-এও তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে এসেছিল। বিস্তর চর্চা হয়েছিল তা নিয়ে। ফের ২০২৫-এও এই মন্তব্য প্রকাশ্যে। আর কেউ নন, মন্তব্য খোদ আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের। ২০২৪ সালে, মোহন ভাগবত ভারতীয় সমাজকে টিকিয়ে রাখার জন্য দম্পতিদের কমপক্ষে তিনটি সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা বলেছিলেন। সেই সময়ে তাঁর মন্তব্য নিয়ে তুমুল হইচই হয়। বিরোধী দলগুলি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের তুমুল কটাক্ষ সামনে এসেছিল।  নাগপুরে ভাষণ দিতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মারাঠি ভাষায় বলেছিলেন, 'জনসংখ্যা বিজ্ঞান অনুসারে, যখন জনসংখ্যা বৃদ্ধি ২.১ এর নিচে থাকে, তখন একটি সমাজ নিজেই ধ্বংস হয়। কেউ এটি ধ্বংস করে না।' ২০২৫-এর জানুয়ারিতে প্রকাশ্যে আসে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) একটি শাখা বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) শুক্রবার (২৪ জানুয়ারী, ২০২৫) দাবি করেছে যে হিন্দু সমাজের জন্মহার হ্রাসের মূল কারণ সম্প্রদায়ের জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা। সংগঠনটি হিন্দু পরিবারগুলিকে কমপক্ষে তিনটি সন্তান লালন-পালন করার কথা জানিয়েছিল। উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজ জেলার কুম্ভমেলায় অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মার্গদর্শক মণ্ডলের (কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা বোর্ড) দুই দিনের বৈঠকে ভিএইচপির এই বিবৃতি সামনে আসে।

    সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবারেও একই মন্তব্য করেছেন মোহন ভাগবত। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত বলেছেন যে ভারতের পরিবারগুলিতে আদর্শভাবে তিনটি সন্তান থাকা উচিত, এই বিষয়টিকে পারিবারিক সম্প্রীতি এবং দেশের জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা, দুটি বিষয়ের সঙ্গেই যুক্ত। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তরে মোহন ভাগবত এই মন্তব্য করেন। যদিও তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, তিনের কম প্রজনন হারের সম্প্রদায়গুলি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। 

    সূত্রের খবর, এদিন তিনি বলেন, 'চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সঠিক বয়সে বিয়ে করলে এবং তিন সন্তানের জন্ম দিলে বাবা-মা এবং সন্তান উভয়ই সুস্থ থাকে।' শুধু তাই নয়, তিনি আরও বলেন, একসঙ্গে তিন ভাইবোন, একই বাড়িতে বেড়ে উঠলে তাদের অহংকার নিয়ন্ত্রণ হয়, ভবিষ্যতে তাদের পারিবারিক জীবনে কোনও অশান্তি হয় না।'  

    তিনি যেমন জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে নজর দিতে বলেছেন, তেমনই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিতেও জোর দিয়েছেন। জোর দিয়েছেন সন্তান লালন পালনের বিষয়ে। সূত্রের খবর, এদিন তিনি বলেন, 'এছাড়াও একটা উদ্বেগের বিষয় আছে। জনসংখ্যা আশীর্বাদ হতে পারে, কিন্তু বোঝাও হতে পারে। দিনশেষে সবাইকে খাওয়াতে হবে। এই কারণেই জনসংখ্যা নীতি বিদ্যমান। তাই, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এবং একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে সন্তান নিশ্চিত করার জন্য, প্রতিটি পরিবারের তিনটি সন্তান থাকা উচিত, তবে তার বেশি নয়। এটি নিশ্চিত করার জন্য যে তাদের লালন-পালন সঠিকভাবে হচ্ছে। এটি এমন একটি বিষয় যা সকলের গ্রহণ করা উচিত।' 

     এসব কিছুর মাঝে, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত ধর্মান্তরকে জনসংখ্যার ধরণকে প্রভাবিত করার একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, 'ধর্মান্তর একটি সমস্যা কারণ এটি সংখ্যাকে প্রভাবিত করে।' 
  • Link to this news (আজকাল)