কর কমলে কোন কোন রাজ্যগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে?
আজকাল | ২৯ আগস্ট ২০২৫
আজকাল ওয়েবডেস্ক: কর হার সরলীকরণ, স্ল্যাব বাতিল এবং ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জীবনযাত্রা সহজ করার লক্ষ্যে পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কার নিয়ে আলোচনা করতে শীঘ্রই বৈঠক করবে জিএসটি কাউন্সিল। শুল্ক কমানোর অর্থ পণ্যের দাম কমবে, ব্যয় বৃদ্ধি পাবে- ফলে অর্থনীতিতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উন্নতি ঘটতে পারে। তবে, জিএসটির উপর নির্ভরশীল রাজ্যগুলি গুরুতর রাজস্ব ঘাটতির সম্মুখীন হতে পারে।
এসবিআই এবং অ্যাম্বিট ক্যাপিটালের সমীক্ষা অনুসারে, কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলির জন্য সম্মিলিত ক্ষতি বছরে ৭০,০০০ কোটি টাকা থেকে ১.৮ লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। যদিও অ্যাম্বিট ক্যাপিটাল এটাকে ইচ্ছাকৃত "রাজস্ব উদ্দীপনা" বলে অভিহিত করেছে এবং জানিয়েছে যে- সাম্প্রতিক আয়কর হ্রাসের পর এটি দ্বিতীয় বৃদ্ধি।
রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, "জিএসটি হার হ্রাস আয়কর হ্রাসের চেয়ে আরও শক্তিশালী উদ্যোগ। ব্যয় হ্রাস না করে যদি সরকার জিনিসের দাম কমায়, তাহলে জিডিপি ২০-৫০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি পেতে পারে।"
তবে জিএসটি শুল্ক কমানোর ফলে দেশের সব রাজ্যের ক্ষতি হবে এমনটা নয়।
কোন রাজ্যগুলির মাথায় হাত?বেকার টিলি এএসএ ইন্ডিয়া এলএলপি-এর অংশীদার সুদীপ গুপ্ত উল্লেখ করেছেন যে, কর্ণাটক এবং তামিলনাড়ুর মতো ভোগ-কেন্দ্রিক রাজ্যগুলি লাভবান হতে পারে। কিন্তু পাঞ্জাব, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো ঋণ-ভারে জর্জরিত রাজ্যগুলি গুরুতর চাপের সম্মুখীন হবে বলে আশঙ্কা। এইসব রাজ্যের কর রাজস্বের ৪০ শতামশের বেশি জিএসটি থেকে আসে, তাই এতে যেকোনও ব্যাঘাতই বেশ কঠিন। মহারাষ্ট্রেরও বিশাল ঘাটতি রয়েছে, এই রাজ্য স্বল্পমেয়াদী ধাক্কা লাগতে পারে। যদিও পুরোটাই নির্ভর করে কেন্দ্র দুর্বল রাজ্যগুলিকে কতটা সমর্থন করে তার উপর।
বিডিও ইন্ডিয়ার অংশীদার কার্তিক মণি এই উদ্বেগে নয়া মাত্রা যোগ করেছেন। তাঁর কথায়, “যেহেতু কর-হার হ্রাস দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসের উপর বেশি হবে তাই জিএসটি কর-হার হ্রাসের ফলে সমস্ত রাজ্যের জন্য কম-বেশি রাজস্ব ঘাটতি দেখা দেবে। তবে এর প্রধান প্রভাব পড়বে যেসব রাজ্যে বেশি খরচ হয়ে তাকে যেমন- উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটে। এিসব রাজ্যের বিশাল জনসংখ্যার কারণে উল্লেখযোগ্য ব্যয় রয়েছে।”
ভারতের বৃহত্তম জিএসটি আদায়কারী রাজ্যগুলি হল- মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, গুজরাট, তামিলনাড়ু এবং হরিয়ানা। জিএসটি হার সংস্কারের ফলে এইসব রাজ্যে রাজস্ব হ্রাস পেতে পারে। কেরল, পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড এবং হিমাচল প্রদেশ আনুপাতিকভাবে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে, কারণ তাদের কর আয়ের ৩০-৪০ শতাংশ জিএসটি থেকে আসে।
জিএসটি ক্ষতিপূরণ সেস অক্টোবরে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত রাজ্যগুলিকে রাজস্ব ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্য জিএসটি কর-কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে এটি কোভিড-যুগের ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
এটি ছাড়া, কিছু রাজ্যকে এই ঘাটতি পূরণের জন্য অন্যান্য উপায় খুঁজে বের করতে হতে পারে।
এইসব রাজ্য কীভাবে মোকাবিলা করবে?বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যস্ব আদায়ে জোর দিতে হবে। কর ফাঁকির নানা উপায় সনাক্ত করার জন্য কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে হবে। কর রাজস্ব উন্নত করার জন্য, রাজস্ব ক্ষতির একটি অংশ পূরণ করতে জ্বালানি এবং মদের উপর কর বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করতে পারে।
কী হবে?৩-৪ সেপ্টেম্বর আসন্ন জিএসটি কাউন্সিলের সভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মূলত জিএসটি রাজস্বের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল রাজ্যগুলি প্রস্তাবিত জিএসটি- হার কমানোর বিরোধিতা করতে পারে বা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। জিএসটি কাউন্সিলে ভোটের নিয়ম হল- ওয়েটেড সিস্টেম। অর্থাৎ- কেন্দ্রের ভোট এক-তৃতীয়াংশ এবং সমস্ত রাজ্যের সম্মিলিতভাবে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট থাকে। একটি প্রস্তাব পাস হতে মোট ওয়েটেড ভোটের কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ ভোটের প্রয়োজন হয়।
এর অর্থ হল, কেন্দ্র এবং যথেষ্ট সংখ্যক সমর্থনকারী রাজ্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন না করা পর্যন্ত, কিছু রাজ্য দ্বিমত পোষণ করলেও কাউন্সিল প্রস্তাব পাস করতে পারে। কিন্তু যদি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলি বিরোধিতা করে এবং কেন্দ্র প্রস্তাবটিকে সমর্থন না করে, তাহলে এটির পাশ হওয়া মুশকিল। এক্ষেত্রে প্রস্তাব পাশে ঐকমত্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঐক্যমত ছাড়া, জিএসটি ২.০ চালু হতে বিলম্ব হতে পারে, যা ব্যবসা এবং গ্রাহক উভয়ের জন্যই অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।