নয়ডায় নিক্কির মৃত্যু সিলিন্ডার ব্লাস্টে! বাড়িতে গিয়ে কী খুঁজে পেল পুলিশ? মোড় ঘোরানো তথ্য সামনে
আজকাল | ২৯ আগস্ট ২০২৫
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২১ আগস্টের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় দেশ। এক একদিন উঠে আসছে এক এক ধরনের তথ্য। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, নিক্কির সিলিন্ডার ব্লাস্টে মৃত্যু হয়েছে বলেই জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ওই প্রতিবেদন সূত্রে খবর, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে একটি তথ্য। সেটি একটি হাসপাতালের মেমো। তাতে উল্লিখিত সিলিন্ডার ব্লাস্টে ঝলসে যাওয়ার পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।
সূত্রের খবর, একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত কথিত স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে যে নিকিকে ২১শে আগস্ট সন্ধ্যা ৬টায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হিন্দিতে আরও বলা হয়েছে, 'ঘর পর গ্যাস সিলিন্ডার ফাটনে সে মারিজ কো কাফি গম্ভীর রূপ সে জল গয়া হ্যায়' (বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে রোগী গুরুতরভাবে পুড়ে গেছেন)। নিক্কিকে হাসপাতালে নিয়ে যয়ায়ার সময় যেসব কর্মীরা তখন হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে নয়ডা পুলিশ। জানা গিয়েছে, নিক্কি নিজেই পুলিশকে জানিয়েছেন, বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে তিনি পুড়ে গিয়েছেন। পুলিশ তাঁর বাড়ি থেকে একটি খালি বোতল থিনার এবং একটি লাইটারও উদ্ধার করেছে। এই তথ্য সামনে আসার পর, এক অংশের বক্তব্য, নিক্কি চাননি এই ঘটনায় কেউ জেলে যান। সেই কারণেই সিলিন্ডার বিস্ফোরণের তথ্য জানিয়েছেন পুলিশকে।
দিনকয়েক আগেই গ্রেটার নয়ডা পণ কাণ্ডে অভিযুক্ত বিপিনের বিরুদ্ধে আরও বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে আসে। শুধুমাত্র স্ত্রীর উপরেই নয়, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে প্রেমিকাকেও শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে! জানা গেছে, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি নিকি জেনে যাওয়ার পরেই, প্রেমিকাকে অত্যাচার করা শুরু করেন তিনি। অভিযুক্ত বিপিনের বিরুদ্ধে গত বছর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তাঁর প্রেমিকা।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত বিপিন বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। প্রেমিকার সঙ্গে তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেছিলেন স্ত্রী নিকি ও বৌদি কাঞ্চন। গত বছর অক্টোবর মাসে নয়ডায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। বিপিনের প্রেমিকা থানায় জানিয়েছিলেন, তাঁদের সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পারেন নিকি। দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেও ফেলেছিলেন। এরপরই তাঁকে বিপিন বেধড়ক মারধর করেন। বিপিনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তাঁর প্রেমিকা।
পুলিশ তদন্তে নেমে আরও জানতে পেরেছে, গত ২১ আগস্ট নিকিকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর জানানো হয়েছিল, ঘরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরেই তিনি ঝলসে গেছেন। এদিকে বিপিনের বাড়িতে পৌঁছে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কোনও চিহ্ন পায়নি পুলিশ। নিকির দিদি কাঞ্চন পুলিশকে জানিয়েছেন, নিকিকে জ্বালিয়ে দেন বিপিন ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন দেবেন্দ্র নামের এক প্রতিবেশী।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর একই অনুষ্ঠানে নিকি এবং কাঞ্চন ভাই বিপিন এবং রোহিতকে বিয়ে করেন। কাঞ্চনের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিকিকে তাঁর স্বামী এবং শাশুড়ি দয়া আক্রমণ করে। কাঞ্চন বাধা দিলে তাকেও মারধর করা হয়। বিপিন নিকির উপর দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। কাঞ্চনের রেকর্ড করা মর্মান্তিক দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে যে বিপিন নিকিকে আক্রমণ করছে। আরও একটি ক্লিপে দেখা যাচ্ছে যে জ্বলন্ত নিকি হোঁচট খাচ্ছেন সিঁড়ি দিয়ে। তাঁকে দ্রুত নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে তাঁকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে রেফার করা হয়, যেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। কাঞ্চন বলেন যে তিনি অভিযুক্তদের বলতে শুনেছেন, “ওকে মেরে ফেলো, শেষ করে দাও।”