• স্ত্রীয়ের মুখে গরম ছুরি ঢুকিয়ে দিল স্বামী! 
    আজকাল | ২৯ আগস্ট ২০২৫
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের খর্গোন জেলায় আবারও পণজনিত অত্যাচারের এক নৃশংস চিত্র সামনে এল। মাত্র ২৩ বছর বয়সি এক নববিবাহিতা নারী, খুশবু পিপলিয়া, স্বামীর ভয়ঙ্কর নির্যাতনের শিকার হন। অভিযোগ, স্বামী মদ্যপ অবস্থায় তাঁকে হাত-পা বেঁধে গরম ছুরি দিয়ে শরীর জুড়ে দগ্ধ করেন। শুধু তাই নয়, যন্ত্রণায় খুশবু যখন চিৎকার করছিলেন, তখন সেই গরম ছুরিটি মুখে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে খুশবুর বিয়ে হয়। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাঁর প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করত। একদিকে পণের দাবি, অন্যদিকে সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার হুমকি—দু’দিক থেকেই খুশবুকে চাপের মুখে ফেলেছিল স্বামী। খুশবু জানিয়েছেন, রবিবার রাতে তাঁর স্বামী নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রথমে লাথি-ঘুষি মেরে তাঁকে আঘাত করেন। এরপর রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে তাঁর হাত-পা বেঁধে গরম ছুরি শরীরের বিভিন্ন অংশে চেপে ধরেন।

    তাঁর শরীরের বুক, হাত, পা জুড়ে গুরুতর দগ্ধ দাগ রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই দগ্ধ ক্ষতগুলির অনেকগুলি গভীর এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সোমবার ভোর প্রায় সাড়ে চারটার সময়, খুশবু নিজের বাঁধন মুক্ত করতে সক্ষম হন। তিনি এক পরিচ্ছন্নকর্মীর কাছ থেকে মোবাইল ধার নিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে তাঁর বাবা লোকেশ বর্মা সঙ্গে সঙ্গে ছোট ছেলেকে পাঠিয়ে মেয়েকে বাড়ি থেকে উদ্ধার করান। পরবর্তীতে খুশবুকে গুরুতর অবস্থায় আবরকাছ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    হাসপাতালের তরফে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে খর্গোন থানার আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে যান এবং খুশবুর বয়ান রেকর্ড করেন। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও পণ-নির্যাতন বিরোধী আইনে মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খুশবুর পরিবার জানিয়েছে, বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাঁকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, পণের চাহিদাই এই নৃশংস নির্যাতনের মূল কারণ। পরিবার অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি দাবি করেছে।

    ভারতে এখনো পণপ্রথা আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ হলেও সমাজে এর প্রভাব কমেনি। প্রতি বছর অসংখ্য নারী এই প্রথার কারণে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, পণজনিত কারণে নারী নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কঠোর আইন নয়, সামাজিক সচেতনতা এবং নারীর আর্থিক স্বনির্ভরতা বাড়ানোই এই ধরনের ঘটনার সংখ্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে। খুশবুর ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিল, সমাজে পণপ্রথা ও নারী নির্যাতন কতটা গভীরভাবে প্রোথিত। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বটে, তবে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।
  • Link to this news (আজকাল)